|
ধ্যানী[চতুর্থক কবিতা]
(হরিধানের আবিষ্কারক কে)
প্রতিটি আদম সন্তানই , গোপন-অগোপনে , একে অপরের চেয়ে জ্ঞানী, তবে ধ্যানী নয় সবে,
অসংখ্য আকাশ , মহাকাশে বিদ্যমান , চর্মচক্ষু বলে! একটি আকাশই বৃষ্টি ঝরায় নিরবে,
আর এইসব অহোরাত্র সমূহ আপন বেগে ধাবমান,যাপিত বোধ ও অনাগত জ্ঞান-ধ্যানের উৎসবে
আর তাদের চরণের শক্তি আর হৃদয়ের ভক্তি এসে বিন্দুতে মেশে ,যেখানে আলোক বিন্দু উজ্জ্বলতম ,গম্ভীর মাঙ্গলিক গৌরবে।
প্রকৃ্তির নিগূঢ়তম সত্য ভাষণ ,আসন ফেলে না কোথাও,বসে না ক্লান্তি , আবেগ কিংবা শ্রান্তিতে
এ ভাষণ ঘোরে,সৃষ্টি-অনা্সৃষ্টিতে ,রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে ,গোপন-অগোপনে ,প্রাকৃতিক কোন সংগীতে
আগমনেই জানতে হয় , একদিন হবেই লয় , শুধু থাকে সত্য ভাষণ , ধ্যানী-জ্ঞানীর ভংগীতে
আর আদম সন্তানেরা, অচেনা হৃদয়ে ধারণ করে সেই সত্য ভাষণ , তবু দিন যায় তাদের কেবলি বিভ্রান্তিতে।
যা কিছু অবলোকিত হয় , তার সবই কি সত্য নয়? তবে বিলম্ব কেন এ অবগাহনে?
জেনো! নীলাচলে যে নীল ভাসে সৃষ্টির আদি-উপাদানের রূপে, তা প্রত্যাবর্তিত হয় , নশ্বর সূ্র্যের খান্ডব দাহনে?
অন্য জগত-সমূহ কি একই চক্রে বাঁধা? আগমন-প্রত্যাগমন ,জীবন ও মরন? মহাকালের অদ্ভূত বাহনে?
হৃদয়ের চোখে ভাসে একটি আকাশ, যেন ধাঁধা! সেই বাঁধার দূ্র্গে ,মূর্খেরা খেলে পাশা, আমৃত্যু দিবস-শয়নে।
সত্য ভাষণ, করে ধারণ, তাবৎ মহাকাল , ওড়ে শূণ্যে হাউই ,মাথাল মাথায় কৃ্ষক বসে ধ্যানে
ওড়ে ধূ্মকেতু , সেই হেতু , গড়ে ওঠে সেতু , দিন-রাত্রির চক্রে , বক্রে-সরলে , অমৃত-গরলে, অনন্ত অনির্বান জ্ঞানে।
আর নবান্নের উৎসব পৃ্থিবীর ঘরে ঘরে , জমিনে চাষার লোহিত-ঘর্ম ঝরে, তাও বর্ণিত, হেরা পর্বতের সেই সত্য ভাষণে
দৃষ্টিই সৃষ্টি অনুভবের শেষ কথা নয়,প্রথা পায় লয়,বুঝি!অশ্বত্থ বৃক্ষমূ্লে গোকূ্লের কৃ্ষ্ণকান্তি কৃ্ষক লাঙ্গলসম ক্রুশ কাঁধে দাঁড়ায় সটানে।
অনন্ত অনির্বাণ জ্ঞাণ ,আপন ধ্যানে ,দেদীপ্যমান ,উজ্জ্বলতম আলোকবিন্দুতে ,তাবৎ সৃষ্টির গোপন গহীনে
আপন বেগে ধাবমান মহাকাল চলে বয়ে ,সেই বিন্দুতে একাকার হয়ে ,নিরাকারের গম্ভীর মাঙ্গলিক গৌরবে
চরণের শক্তি-হৃদয়ের ভক্তি,অবিরত সৃষ্টির সংগীত সাধনায়!আদ্যন্ত উদ্বেলিত চাষার ফসলের গানে ,ফসলের উৎসবে
সে গানের সুরে,অতীত ও আগত ধ্যানীদের চোখ জুড়ে,কত নদী খেলা করে ,আর জ্বলে বিন্দু তাবৎ শূণ্যে-জলে-স্থলে ,শ্বাশত অনির্বাণ ধ্যানে।
|